অমিতাভ দাস-এর গদ্য

Spread This

অমিতাভ দাস

গদ্য ১
 
আমার  যা আছে সকলি দিতে পারিনি তোমারে , হে নাথ..
 
 
সারারাত বৃষ্টি হল। এখনো হচ্ছে। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেল বৃষ্টির গমকে। অন্ধকার রাত। ঝরে যাচ্ছে শ্রাবণ ধারা। তার নিজস্ব একটা সুর আছে, লয় আছে, ধ্বনি মাধুর্য আছে। প্রায় এক ঘন্টা মতো বৃষ্টি শুনলাম কান পেতে। ভাবলাম বৃষ্টি শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ব, ছেলেবেলার রাত্রিগুলির মতো। বড়বেলায় আর ঘুম পায় না। কান্না পায়। কান্নাও পায় না, ভিতর ঘরে সব কেমন যেন চুপ হয়ে থাকে। আকুলি- বিকুলি যন্ত্রনা। কে যেন বুকের ভিতর গামছা নিঙড়ে দিচ্ছে। তবু বৃষ্টি অবিরাম ঝরে যাচ্ছে। বৃষ্টি নিয়ে চিরকালীন বিলাসিতা আমার। নিজের সঙ্গে কথা বলা । স্মৃতি খুঁড়ে বেদনা জাগাতে চাওয়া। জীবনানন্দ কবেই তো বলে গেছেন “কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে”। এতদিনে বুঝেছি বেদনা জাগায় স্মৃতি। বেদনা জাগায় গতজন্মের ভূত।
 
ইদানীং বিকেলগুলো খুব অন্যরকম মনে হয়। নিজের সঙ্গে কাটাই। প্রায় ফাঁকা বাসে জানালার কাছে সিটে বসি। জানালা দিয়ে কত কিছু দেখি। হাওয়া আসে। কিছু ভাবতে চাই। আসলে কিছুই ভাবা হয় না আর। মিনিট ২০ পর নেমে ছাত্র পড়াই। তাদের সঙ্গে কাটাই। ফেরার সময় শ্মশানের পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দাঁড়াই। অনেক আগে বছর তিনেক আগে, আমি আর চয়ন খুব আসতাম। শ্মশানের কাছে একটা ছাতিম গাছ ছিল। এখনো আছে হয়ত। সেই গন্ধে ম ম করত পথঘাট, চারপাশ। তখন মূলত আমার বা ওর বাইকে চেপে রাতের বেলা ঘুরে বেড়াতাম। অদ্ভুত কত যে খেয়াল ছিল । গল্প করতাম। অচেনা গুমটি দোকানে বসে চা-বিস্কুট খেতাম। সর্বদাই খুঁজে চলা— একটা গোটা জীবন কেবল খুঁজে চলা ছাড়া আর কী!!  এই যে বৃষ্টি অনর্গল ঝরে যাচ্ছে ঝরে যাচ্ছে আর ঝরে যাচ্ছে—এও তো এক খোঁজা। এই ঝরে যাওয়াতেই বৃষ্টির আনন্দ। সে তোমার ভিতরের খসখসে মাটি যে ভিজিয়ে দিলো গো। মাটি নরম হল যে — চাষ করবে না ? ” এমন মানব-জমিন রইল পতিত
আবাদ করলে ফলত সোনা।” — কী গো সোনা ফলাবে না? কেবল ঘুম? এত ঘুমুলে হবে। ঘুমুবে তাঁরা যাঁরা কেজো মানুষ। অফিস- আদালতে যায়।  স্কুল- কলেজে যায়। চাকরি করতে যায়। তুমি তো কেজো মানুষের জগতে অকেজো একটা লোক। তোমার ঘুমুলে চলবে কেন? তুমি লেখ— বৃষ্টি লেখো। শব্দ লেখো।  নিজেকেই লেখো। এসব কে যেন বলে , কানে কানে বলে, শুনতে পাই।
 
বৃষ্টির ভিতর দিয়ে ট্রেন চলে গেল। হু হু বিষাদ লাগছে। সবার যেমন শীত লাগে, আমার বিষাদ লাগছে। অথচ কথা ছিল সোনা ফলাবার। কথা ছিল খুব চুপ হয়ে থাকবার। কখন যে ঝুপ করে কান্না নেমে আসবে আমি জানি না। সত্যিই আমি জানি না কেন কান্না ঝুপ করে নেমে টুপ করে খসে পড়ে দু- চোখ থেকে ।
 
সে কত বছর আগের কথা। এক দুপুরে হালিশহরে গঙ্গার ঘাটে বসে ছিলাম । পুজোর ঠিক আগে আগে। আকাশ কালো করে বৃষ্টি — সে কী তীব্র বৃষ্টি। সবাই উঠে চলে গেল। আমি উঠলাম না। বসে থাকলাম ছাতাটা খুলে মাথায় দিয়ে। লোকে ভাবল পাগল। তাতে বয়েই গেল। বসে না থাকলে আমার যে দেখা হত না আকাশ আর নদী কীভাবে মিশে যায়! কীভাবে মেঘ নেমে আসে জলে? কীভাবে বিদ্যুৎ চমকায় জলের শরীরে? কীভাবে রচিত হয় আকাশ আর নদীর সঙ্গম। দেখলাম চরাচর নীলাভ- কালো মেঘে ঢেকে গিয়েছে। সে এক অপূর্ব রূপ। যে সময়ে ভৈরব জেগে ওঠে, ভৈরবী খুলে রাখে তাঁর আনত কেশভার। জলে জলে ছবি আঁকে এক অদৃশ্য চিত্রকর। কালিদাস আনন্দে যেন উন্মাদ হয়ে ওঠেন। তানসেন কখন যেন বসে যান মল্লার গাইতে — মেঘে মেঘে তখন বিপুল আলোড়ন। গোবিন্দ দাস, জ্ঞানদাস, চন্ডীদাস, এমনকী রবীন্দ্রনাথ বসে পড়েন কিছু লিখতেই হবে, অথচ লেখা হয় না। কদম্বকাননে ফাঁকা একটা দোলনা অকারণ ঝুলতে থাকে— ফাঁকা, কেউ নেই। ঝুলতে থাকে। দূরে ভিজতে ভিজতে একটা- দুটো নৌকা আসে। বসে বসে ভিজে যাই আমি। ভিজে যায় চোখ। এক সময় বৃষ্টি থেমে যায়। তবে আজ বৃষ্টি থামার নয়। ঝরে যাচ্ছে অবিরাম । তোমার ভালো না লাগলেও ঝরে যাচ্ছে। গাছেরা আরো সবুজ হয়ে উঠছে। জীবনে এমন সবুজ খুব দরকার। জীবনে খুব বৃষ্টি দরকার।
 
যুগ যুগ ধরে যে দোলনাটা ঝুলছে, কেউ এসে বসেনি তাতে। চোখ বন্ধ করো। দেখতে পাবে। ওই দোলনাটার নাম কি জানো ?
—  ওর নাম বিরহ ।।
 
 
 
গদ্য ২
 
বাঙালির_ঐতিহ্য
 
আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি। আমরা বাঙালি। কেউ কেউ বলেন ‘বোঙ্গা’ থেকে ‘বঙ্গ ‘ শব্দটি এসেছে। আর বঙ্গ+আল থেকে বঙ্গাল বা বাংলা। ৬০৬ সালে শশাঙ্ক অনেকগুলি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্য জয় করে প্রথম ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ সৃষ্টি করেন। পূর্বে বাংলা মানে গৌড়-কে বোঝাত। ফলত শশাঙ্ককে বলা হত ‘গৌড়েশ্বর ‘। আবুল ফজলের ‘ আইন-ই-আকবরী ‘ গ্রন্থে প্রথম ‘ বাংলা ‘ শব্দটি সমগ্র দেশ অর্থে ব্যবহৃত হয়। তখন বলা হত ‘ সুবা বাংলা ‘ । বাঙালির কথা রামায়ণ ও মহাভারতেও আছে ।
 
বাঙালির ভাষা বাংলা। “মাগধী অপভ্রংশ থেকেই বাংলা ভাষার জন্ম হল খ্রী: দশম শতাব্দীতে বা তারও কিছু আগে “। বাংলা লিপির উৎপত্তি ও বিবর্তন ও পরিণতির দীর্ঘ ইতিহাস আছে । আমরা এখানে সে ইতিহাস নিয়ে আলোচনায় যাব না। তবে এটুকু বলি, ” ভারতের সমস্ত লিপি-অক্ষরের আদিজননী ব্রাহ্মী লিপি ।” খ্রী: দশম-একাদশ শতাব্দীর মধ্যেই বাঙলা অক্ষর নিজের স্থান দখল করে নেয় ।
 
বাঙালি জাতি ও বাংলা ভাষার আদি গ্রন্থ ‘ চর্যাপদ ‘। এই চর্যাপদ বাঙালির ঐতিহ্য বিশেষ। চর্যাপদ আবিষ্কৃত না হলে প্রাচীন যুগের বাংলার ধর্ম সাধনা, আর্য-অনার্যের মিলিত সংস্কৃতির পরিচয় পেতাম না আমরা। কেউ কেউ সে যুগকে বলতে চেয়েছেন ‘হিন্দু-বৌদ্ধযুগ’। বাংলা সাহিত্যে ছন্দ, গীতিময়তা, নাট্যপ্রাণতার পরিচয় যেমন পেয়েছি; তেমনি জেনেছি বাঙালির সামাজিক জীবনের অতীত ঐতিহ্য-কথা ।
 
বাঙালির ঐতিহ্য কী কেবল সাহিত্যে? না তা নয়। ধর্মবোধ, জীবনবোধ, মনন- চিন্তন, লোকাচার, নৃত্য-গীত তথা মগ্ন শিল্পবোধের মধ্যেও অখন্ড বাঙালির ঐতিহ্য লুকিয়ে আছে । ‘প্রাকৃত পৈঙ্গল’ বলে একটি গ্রন্থে অপভ্রংশ ভাষায় একটি শ্লোকে সেকালে বাঙালির ভোজনের চমৎকার চিত্র পাই ।
 
” ওগ গর ভত্তা রম্ভঅ পত্তা গাইক ঘিত্তা দুগ্ধসজুত্তা ।
মোইলি মচ্ছা নালিচ গচ্ছা দিজ্জ ই কন্তা খাই পুনবন্তা ।।
 
অর্থাৎ ওগরা ভাত , রম্ভার পাত , গাইয়ের ঘি , দুগ্ধ সংযুক্ত ।
মৌরলা মাছ , নালিতা শাক– কান্তা দিচ্ছে , পুণ্যবান খাচ্ছে ।
 
নৃত্যগীত বাঙালির প্রাচীন ঐতিহ্য। তার ধারা আজো অব্যাহত। জয়দেব- পদ্মাবতী নৃত্য-গীতে পটু ছিলেন। চর্যাপদে আছে বাঙালির নাট্যপ্রাণতার কথাও।” নাচন্তি বাজিল গাঅন্তি সেঈ, বুদ্ধনাটক বিষমা হোই।” সে কালে দেবতার পূজা উপলক্ষে শোভাযাত্রা হত। যা আজো বহমান। পাঁচালি ও পুতুল নাচের প্রচলন ছিল তখন। পাঁচালি হারিয়ে যায় নি। পুতুল নাচের ধারা কোথাও কোথায় আছে আজো। পঞ্চলিকা থেকে পাঁচালি। পঞ্চলিকা মানে পুতুল। ঐতিহাসিক অনুমান পুতুল নাচের প্রচলন ছিল পাঞ্চাল দেশে।
 
তৎকালে মেয়েরা মাথায় ঘোমটা দিত। সিঁথিতে সিঁদুর। নানা রকম ব্রত পালন করত। সাধারণ ভদ্রমহিলারা একবস্ত্রে থাকত। চলন ধীর , লজ্জাশীলা। বাঙালির জীবন ছিল সহজ , সরল ও সুন্দর। আজ যে জীবন থেকে বাঙালি অনেকটাই সরে গিয়েছে। পাশ্চাত্যের মিশ্র সংস্কৃতিকে অনুসরণ করেছে সে। তবু বাঙালি বাঙালিই আছে— তর্কে ,ভক্তি উন্মাদনায়, আবেগে, আলস্যে, কলহে এবং আতিথেয়তায় বাঙালি তীব্রভাবেই আছে। আছে শিল্পে, সাহিত্যে, রাজনীতিতে এবং অর্থনীতিতেও। তবে প্রাচীন বাংলা ও বাঙালির সঙ্গে সমকালীন বাঙালির মিল খুঁজতে গেলেই বিপদ ।
 
গদ্য ৩
 
প্রেম মানে তো টেলিফোন 
 
টেলিফোন নিয়ে এত স্মৃতি , এত কথা যে লিখে শেষ করা যাবে না। আসলে সব কথাই খুব সাধারণ । অসাধারণ হল টেলিফোন ।
 
আমার লেখালিখির শুরুর দিকে হাতে গোনা কয়েকজনের বাড়িতে টেলিফোন ছিল । নম্বর দিয়ে চাকতি ঘোরানোর মতো । ফোনে কারো সঙ্গে কথা বলছি, সেইটেই খুব আশ্চর্য আর বিস্ময়ের ব্যাপার ছিল। সেই ’94  সালের পর আমরা রবিবার চিত্তরঞ্জন স্যারের হরিপুরের বাড়িতে যেতাম সকালবেলা । আমি আর সৌরভ। কত লেখক আসতেন। চিত্তবাবু ছিলেন উত্তর 24 পরগনা বার্তার সম্পাদক। পাক্ষিক নিউজ পেপার। শারদ সংখ্যা বড় করে হত। লিখতেন সুনীল – সমরেশ- জয়- তারাপদ। আমরাও লিখে ধন্য হতাম । তাঁকে লেখা শোনাতাম। তাঁর ঘরের পাশের ঘরে একটা পুরনো আমলের কালো টেলিফোন ছিল। আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় দু-চার ফোন চিত্তবাবুর সেই টেলিফোন থেকেই করতাম। প্রয়োজনের থেকে উৎসাহ আর কৌতুহল ছিল বেশি ।
 
আমাদের বাড়িতে প্রথম ফোন এসেছিল 1999 সালে । নম্বরটা আজো মনে আছে 03216271630। তখন বাড়িতে ফোন থাকা মানে বিরাট একটা কৌলিন্য যেন। সারা পাড়ার লোকের ফোন আসত আমাদের বাড়িতে। শোক সংবাদ থেকে আনন্দ সংবাদ। এমন অনেক বার হয়েছে গভীর রাতে বেজে উঠেছে টেলিফোন। দিল্লি থেকে খবর এল একটি মৃত্যু সংবাদ। শীতের রাতে ঠকঠক করে কাঁপতে কাঁপতে ছুটলাম পাড়ার একটি বাড়িতে খবর দিতে। একটা সময় এত ফোন আসতে শুরু হল যে রিসিভার তুলে রাখতে বাধ্য হতাম।
 
প্রথম প্রেম টেলিফোনেই বলা চলে। বকুল , আমার প্রথম প্রেম ; একটি বিশেষ সময়ে রোজ ফোন করত। কথা হত দশ বা কুড়ি মিনিট। বেশি হলে ত্রিশ। সারাদিনের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল সময় ছিল সেইটে। অপেক্ষায় থাকতাম কখন ফোন আসবে তাঁর। একবার তো ফোন ধরেছিল বাবা, হ্যালো বলার সঙ্গে সঙ্গেই বকুল অনেক কথা বলেছিল — অভিযোগ ছিল অনেক—
বাবা বললেন, তোর ফোন ধর। সে কী কান্ড— লজ্জায় মাথা কাটা যায়–
বকুল বলছিল , তোমার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলাম 78 বাসস্ট্যান্ডে।  এলে না তো । তোমার একটা দায়িত্ব বোধ নেই…
 
মোবাইল ফোন 2003 এ। সেই নম্বরটা আর নেই। তখন প্রেম মানেই মোবাইল। পাওয়ার মেরে কথা– রিলায়েন্স টু রিলায়েন্স 19 পয়সা মিনিট। সেইটেই সবচেয়ে কম পয়সায় কথা। বকুলের নিজের ফোন ছিল না। রাতে একটা বিশেষ সময় ওর বান্ধবীর  ফোনে ফোন করতে হত। পরে আমি তাকে একটি ফোন কিনে দিয়েছিলাম।
 
বাড়িতে যখন ফোন এলো তখন মাঝে মাঝে ফোন করতাম শ্রদ্ধেয় শঙ্খ ঘোষের কাছে অল্প বয়সের প্রগলভতায়। তিনি আমার নানা প্রশ্নের উত্তর দিতেন। কখনো জার্নাল নিয়ে, কখনো এ আমির আবরণ, কখনো বা ইছামতীর মশা নিয়ে নানা প্রশ্ন করেছি। তিনি কখনো বিরক্ত হননি বরং সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। কতবার যেতে বলেছেন, আমি আজো তাঁর বাড়ি যেতে পারিনি স্বভাব আলস্যে। শঙ্খবাবুর এ আমির আবরণ পড়ে একটা গদ্য লিখেছিলাম। ছাপার পর সেটা তাঁকে পাঠিয়েছিলাম। ফোনে তাঁর ভালো লাগার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
 
2003 আমার প্রথম পুরস্কার পাওয়ার খবর এসেছিল বাড়ির টেলিফোনে। অদ্ভুত, পাগলের মতো আনন্দ পেয়েছিলাম বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থ পুরস্কার পাওয়ার আনন্দে।
 
দিদিমা গত হলে ফোনটা ছেড়ে দিতে হয়েছিল। কারণ তাঁর নামে সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে ফোনটা পাওয়া। খুব মন খারাপ হয়েছিল। অবিশ্যি ততদিনে হাতে হাতে চলে এসেছিল মোবাইল ফোন। সে এক অন্য জগৎ। হাতের মুঠোয় বিশ্ব নিয়ে ঘুরে বেড়াই আমরা এখন ।
2004 যে ফোনটা ছিল নোকিয়ার তাতে মেমোরি কার্ড ভরা যেত না। আরো পরে এল মেমোরি কার্ড ।
 
যেকথা বলার, পুজোর পর বেশ ঘটা করে বন্ধু ও পরিজনদের আমরা শুভ বিজয়া জানাতাম। সে আনন্দই আলাদা। আজো ফোন আসে। কথা হয়। তবে সেই আনন্দ আর নেই। বুঝি বয়স হয়েছে এখন। মুগ্ধতা কমে নিয়ে নিরাসক্ত হয়ে উঠছে মন।