সুজন ভট্টাচার্য-র প্রবন্ধ

Spread This

Sujan Bhattacharya

সুজন ভট্টাচার্য

করোনা প্রতিরোধঃ রাষ্ট্রহীনতার পথে একধাপ
 
 
ইদানিং সেই প্রাচীন লোকগীতিটার কথা খুব মনে পড়ে যায়। সেই যে, কোনো এক অজ্ঞাত কবি লিখেছিলেন না –
 
“কে বোঝে তোমার লীলা, ওগো লীলাময়।
কখন তুমি সোহাগ দেখাও, কখন জাগাও ভয়।।
 
   (তুমি) গাঙের জলে পানসী ডোবাও
         তীরে এনে হঠাৎ ভাসাও 
 বাঁচাও নাকি দম-টা ঘোচাও
          খেলা তোমার বোঝে কে!
 
 (তোমার) এই যে শুনি বংশী বাজন
      হঠাৎ সেটাই রাখাল-পাচন
      বাঁশির কূজন ভরালো মন
                 ছড়ির ঘায়ে মরি হে!” 
 
কেন মনে পড়ছে? ধরুন, আপনার গা ছ্যাঁকছ্যাঁক করছে। গেলেন ডাক্তারের কাছে। তিনি গম্ভীরমুখে আপনার গা-হাত-পা পরীক্ষা করে নিদান দিলেন হাসপাতালে ভর্তির। সাতদিন পরে আপনার ধুম জ্বর; গা যেন পুড়ে যাচ্ছে। ডাক্তারবাবু আহ্লাদে মুখে বললেন, আপনার ছুউট্টি। এবার বাড়ি গিয়ে নিশ্চিন্তে ফুটবল খেলুন। কী মনে হবে আপনার? মনে হবে না, আহারে! একে বাইরে ছেড়ে রেখেছে কেন? পাগলা গারদে কি সিটের অভাব? প্রমথনাথ বিশীর একটি নাটকে (নামটা আর মনে নেই, মাফ করবেন) সুস্থদের পাগলা গারদে ভরে পাগলদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কারণ সেই একই। সিটের অভাব। তবে গণতন্ত্রের ফলনে আর পাগলা গারদের দরকার পড়ে না , অন্য বন্দোবস্ত আছে।    
 
লক ডাউনের কথাটাই ভাবুন। চার ঘণ্টার নোটিশে লক ডাউন শুরু হয়েছিল ২৪ মার্চ মাঝরাত থেকে। সেদিন সারা দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫৩৬। আর ১ জুন যখন আন-লক ডাউনের প্রথম পর্যায় শুরু হল তখন দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১,৯০,৬০৩। অর্থাৎ ৬৮ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ল ১,৯০,০৬৭; দৈনিক গড় ২৭৯৫। শুধু ৩১ মে আক্রান্ত বলে চিহ্নিত হয়েছেন ৮,৭৪৪ জন। ব্যাপারটা তাহলে কী দাঁড়াল? প্রায় সাত সপ্তাহ লক ডাউন চালিয়েও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ল ৩৫৫.৬০ গুণ! এই লক ডাউন ধুয়ে আমরা তাহলে কী খেলাম? এর থেকে চোনার বোতলে চুমুক লাগালে আলাদা কিছু হতো কি? বেশ, লক ডাউন না হয় ফ্লপ-ই করেছে। সে হতেই পারে। এদেশে কত সোনার প্রোজেক্ট ফ্লপ করে গেল! ভাবুন তো দু হাজার টাকার নোটের কথা। সেথায় চিপ বা ছিপ লাগানোর কত কথাই তো শোনা গেল। ক’জনের কালাধন সেই ছিপে আটকাল? উলটে ব্যাঙ্কের লোন গাব করে দিয়ে সোনার চাঁদ বানিয়ারা পাড়ি লাগাল বিদেশে। একটারও টিকি পাকড়ানো গেল না। এমন সোনার নমুনা থাকতে আর লক ডাউনের দোষ কী!     
 
কিছুদিন আগে একজন আক্ষেপ করছিলেন, আমরা এখন একটা স্টেটলেস সোসাইটিতে বাস করছি। শুনে চমকে উঠেছিলাম। আরে, কার্ল মার্কস এমন একটা স্বপ্ন দেখেছিলেন না! সেটা ইতিমধ্যেই বাস্তবায়িত হয়ে গেল? চুপ করে ব্যাখ্যা শুনলাম। ভালো হোক আর মন্দ, রাষ্ট্র আর তার রাজনৈতিক প্রতিভূ হিসাবে সরকার কোনো একটা সঙ্কটের সময়ে সাধ্যমত ভূমিকা রাখার চেষ্টা করে থাকে। যেহেতু সঙ্কটের দায় শেষ পর্যন্ত সরকারের ঘাড়েই এসে পড়ে, তাই সঙ্কট থেকে উদ্ধার পাবার একটা প্রয়াস নিতে সরকার বাধ্য হয়। কিন্তু ভারতে করোনা ভাইরাসের আগমনের পর থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের এমন কোনো ভূমিকা দেখাই যায়নি। লক ডাউন নিয়ে ঢাক পেটানো হয়েছে অনেক। কিন্তু আনুষঙ্গিক একটি কাজও কেন্দ্রীয় সরকার করেনি। বক্তার অভিমত, তাই আমরা আসলে সরকারহীন এবং সেই কারণেই রাষ্ট্রহীন একটা সমাজের বাসিন্দা হয়ে গেছি। 
 
অভিযোগ অথবা বিদ্রূপ যাই বলি না কেন, কথাটার মধ্যে সত্যতা আছে। ভারতে করোনা রোগীর সন্ধান পাওয়া গেল ৩০ জানুয়ারি। কেরালায়। ২১ জানুয়ারি থেকে সাতটি এয়ার পোর্টে চীন থেকে আগত যাত্রীদেরই শুধু স্ক্রিনিং করা শুরু হয়। স্ক্রিনিং মানে থার্মাল স্ক্রিনিং অর্থাৎ গায়ের তাপমাত্রা বেশি আছে কিনা, শুধু সেই পরীক্ষাটাই করার ব্যবস্থা হল। বাকিটা অর্থাৎ অন্যান্য রোগলক্ষণ আছে কিনা, সেটা যাত্রীদের স্বেচ্ছা-ঘোষণার উপরই ছেড়ে দেওয়া হয়। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় সংক্রমণের খবর পাওয়া গেল ফেব্রুয়ারির ২ আর ৩ তারিখে। মার্চের ৫ তারিখ আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হল ৩০। সেদিনই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ হর্ষ বর্ধন রাজ্যসভায় জানালেন, ‘World Health Organization (WHO) has declared this outbreak as a “Public Health Emergency of International Concern” (PHEIC) on 30th January 2020 and raised the level of global risk to “very high” on 28th February, 2020. Though WHO has not declared COVID-19 to be Pandemic, it has asked the countries to remain prepared’।  
 
সেই বক্তৃতাতেই ডঃ হর্ষ বর্ধন জানিয়েছিলেন সেইদিন পর্যন্ত যারা যারা আক্রান্ত হয়েছেন, তারা হয় বিদেশ প্রত্যাগত অথবা তেমন কোনো মানুষের সংস্পর্শে আসা। অর্থাৎ রোগটা যে আদতে ইমপোর্ট করা হচ্ছে, সেই সত্যটা সেই বক্তৃতায় স্পষ্ট ভাষায় বলা ছিল। তাহলে রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রাথমিক কাজ ছিল বিদেশ থেকে ভারতে আগমনকে নিয়ন্ত্রণ করা। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার ভারতীয় নাগরিকদের কয়েকটি দেশে না যাবার পরামর্শ দিয়েছেন। এই পরামর্শ ছাড়াও এই ক্ষেত্রে সরকার যে ‘সাংঘাতিক’ পদক্ষেপ নিয়েছেন, সেটি হল ‘Passengers of all international flights entering into India from any port are required to furnish duly filled self-declaration form (including personal particulars i.e. phone no. and address in India) and travel history, to Health Officials and Immigration officials at all ports’। ব্যাস, হয়ে গেল। আর সেইসব মানুষেরা একটা ফর্মে সই করে দিব্যি ঘুরে বেড়াতে আরম্ভ করলেন। পরবর্তী ঘটনাক্রম সেটাই প্রমাণ করেছে। 
 
এটা ততদিনে সবারই জানা হয়ে গেছে যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ হলেই যে সঙ্গে সঙ্গেই রোগলক্ষণ ফুটে উঠবে, এমনটা নয়। সর্বোচ্চ ১৪ দিন সময় লাগতে পারে। আবার কারো শরীরে আদৌ কোনদিন রোগলক্ষণের প্রকাশ নাও দেখা দিতে পারে। কিন্তু দু দলের মানুষই সামাজিক সংসর্গের মাধ্যমে অবাধে ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারেন অন্যদের মধ্যে। যেহেতু রোগটা আমদানি হচ্ছে বিদেশাগত যাত্রীদের মাধ্যমেই, তাই প্রতিরোধের সব থেকে বাস্তবসম্মত উপায় ছিল বিদেশ থেকে ভারতে আসা নিয়ন্ত্রণ করা। অর্থাৎ বিদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দেওয়া। নিদেনপক্ষে বিদেশীদের ভারতে আসার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা এবং ভারতীয়রা ফিরে এলে সম্পূর্ণ সরকারি ব্যবস্থায়, সরকারি তত্ত্বাবধানে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারান্টাইনে থাকা বাধ্যতামূলক করে দেওয়া। না, তেমন কিছুই করা হল না। হ্যাঁ, এটা ঘটনা, WHO তখনও প্যানডেমিকের ঘোষণা করেনি। কাজেই কেন্দ্রীয় সরকারেরও বাহানা-র অভাব ঘটে না। 
 
করোনা সংক্রমণের কারনে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা হল ১২ মার্চ। পরদিন WHO করোনা ভাইরাসের সংক্রমণকে প্যানডেমিক বলে ঘোষণা করল। PTI-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সেদিনই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক একটি সাংবাদিক সম্মেলনে জানালেন, ‘Addressing reporters, officials said corona virus is not a health emergency and that there is no need to panic’। দুর্জনে বলে, কেন্দ্রীয় সরকারের যাবতীয় মাথা ব্যথা তখন মধ্যপ্রদেশের গদি দখল নিয়ে। করোনা-র মত ‘তুচ্ছ’ ব্যাপারে সক্রিয় হয়ে ওঠার সময় তখন তাদের ছিল না। সেই মুকুট যখন ঘরে উঠল, একমাত্র তখনই করোনা-র দিকে ফিরে তাকানোর সময় এল। ১৩ মার্চ করোনা নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই বলে আশ্বাস যখন দেওয়া হল, ততদিনে অন্তত বেশ-কয়েকটি রাজ্য সরকারের রাতের ঘুম উবে গেছে। আর বাধ্য হয়ে তাদের কিছু কিছু পদক্ষেপ নিয়েও ফেলতে হয়েছে। আসুন, দেখাই যাক।
    
১৪ থেকে পরবর্তী সাত দিনে আরও বিভিন্ন রাজ্য সরকার একই রকম পদক্ষেপ নিতে শুরু করল। কিন্তু ১৯ তারিখের আগে কেন্দ্রীয় সরকারের ঘুম ভাঙার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। এবং সেই ঘুম  ভাঙাও ছিল একবার চোখ মেলেই আবার পাশ ফিরে শুয়ে পড়া। ১৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন করোনা সংক্রমণের বিষয়ে। সেখানেই ২২ তারিখ ১৪ ঘন্টার জন্য ‘জনতা কার্ফিউ’-এর ডাক দেওয়া হল। প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, ১৪ ঘন্টা সবাইকে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে কি করোনা-র সংক্রমণ বন্ধ করা যায়? মুশকিল হল, ভারতে ইদানিং যুক্তি-তথ্য শোনার লোকজন খুবই বিরল। তবু যারা-ও বা পড়ে আছেন, তাদের উড়িয়ে দিতে হোয়াটস অ্যাপ ইউনিভার্সিটির তাত্ত্বিকরাই যথেষ্ট। প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে তারা ১৪ ঘন্টার ‘ব্রেক দা চেন’ থিয়োরি কপচাতে শুরু করলেন। যে যাই বলুন না কেন, কোটি কোটি ভারতবাসী কিন্তু বিশ্বাস করেছিলেন আকাশ থেকে কিছু একটা ছেড়ে (বিশ্বাসক্ষমতা অনুযায়ী অদৃশ্য রশ্মি থেকে বোমা) মোদি করোনা ভাইরাস-কে মেরে ফেলবেন। পরিণতি তো দেখাই গেল। ঢাক-ঢোল-ক্যানেস্তারা পিটিয়ে পাগলু ড্যান্সের আয়োজন হয়ে গেল দেশ জুড়ে।  
 
সেদিন ১৪ ঘণ্টার ব্রেক দা চেইন থিয়োরি নিয়ে যারা আসর মাত করেছিল, তাদের দেখা আর পাবেন না। কারণ হোয়াটস অ্যাপ ইউনিভার্সিটির সিলেবাস এখন বদলে গেছে। যাই হোক, ২৩ তারিখ মধ্যপ্রদেশের গদি কব্জায় এল। আর এতদিনে কেন্দ্রীয় সরকারের মনে হল, কিছু একটা করা দরকার। দরকার তো বটেই; কিন্তু কী কী করা হবে, সেটা তো ঠিক করতে হবে। আর তার জন্য চাই সদিচ্ছা। এমনিতেই শুয়ে-ঘুমিয়ে কাল কাটিয়ে ফেলায় পরিস্থিতি খারাপ। ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত, দেরি-তে শুরু করলে তাড়াহুড়ো করার স্বাভাবিক প্রবণতা থাকেই। আর যাদের কাজের মূল ধরণ হল স্টান্টবাজি, তাদের তো কথাই নেই। কাজ হোক ছাই না হোক, তালিয়াঁ-র বন্দোবস্ত অঢেল হলেই হল। করোনা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের আচরণ-ও ঠিক সেটাই হয়ে দাঁড়াল। 
 
২৪ তারিখ রাত আটটায় প্রধানমন্ত্রী-র মুখ দেখা গেল টেলিভিশনের পর্দায়। দশ মিনিট পরে তিনি লক ডাউন কর্মসূচী ঘোষণা করলেন। রাত বারোটা থেকে চালু হবে। লক ডাউন মানে কী? জরুরী পরিষেবা ছাড়া যাবতীয় কাজকর্ম বন্ধ রেখে ঘরের মধ্যে বসে থাকা। কাজকর্ম না থাকলে মানুষ সংসার চালানোর অর্থ পাবেন কোত্থেকে? পেটে তো আর লক ডাউন লাগু করা যায় না। ১৩৮ কোটি-র দেশে নিদেনপক্ষে ৮০ কোটি মানুষ দৈনিক উপার্জনের উপর নির্ভরশীল। এদের মধ্যে যেমন দিনমজুর আছেন, তেমনি আছেন ছোট দোকানদার কিংবা তাদের কর্মচারীরা। কাজ বন্ধ মানে তাদের উপার্জন বন্ধ; আর সেই সূত্রে বন্ধ তাদের পেট ভরানোর সুযোগ। ১২ থেকে ১৪ কোটি মানুষ ভিন রাজ্যে গিয়ে দিনমজুরি করেন। বাকিদের তবুও রেশনের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু এদের তো সেই সুযোগ নেই। তাহলে লক ডাউন হলে এরা কী করবেন? কোথায় যাবেন? 
 
এইখানেই আসে সুষ্ঠু পরিকল্পনার প্রসঙ্গ। আর তার জন্য চাই আন্তরিক সদিচ্ছা। মোদ্দা কথাটা খুব সরল। যারা নিজের রাজ্যেই আছেন, তাদের ভরণপোষণের জন্য রেশন দরজায় দরজায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা। আর যারা ভিন রাজ্য থেকে এসেছেন, হয় তাদের নিজের ঘরে ফিরিয়ে দেবার আয়োজন করা। নয়তো তাদের কাছেও রেশন পৌঁছে দেওয়া। সেই আয়োজন হয়ে যাবার পরেই লক ডাউন শুরু করাটাই বাস্তবসম্মত কাজ হত। একটা না একটা পর্যায়ে লক ডাউন চালু করতেই হত। ভারতে কোনো প্রস্তুতি না নিয়েই চটজলদি চালু করে দেওয়া হল। আর তার তাৎক্ষণিক ফল হল ৮০ কোটি মানুষের বেঁচে থাকা-কেই প্রশ্নচিহ্নের সামনে ফেলে দেওয়া। এই অবিবেচক সিদ্ধান্তের কুফল বহন করছে এখন গোটা দেশ। 
 
মার্চের ২৪ তারিখ ভারতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫৩৬। যদি দিন-পনেরো সময় নিয়ে ভিন রাজ্য থেকে আসা মানুষদের হয় নিজ রাজ্যে ফিরিয়ে দিয়ে অথবা যে রাজ্যে তারা উপার্জন করেন, সেখানেই তাদের ভরণপোষণের বন্দোবস্ত করে ফেলা হত, তাহলে না হত দিল্লীর আনন্দ বিহার বাস স্ট্যান্ডের ঘটনা, না হত মুম্বাইয়ের চার্চ গেট স্টেশনের কেলেংকারি। এরা বাড়ি ফিরতে চাইছিলেন নিতান্ত বাধ্য হয়ে। যেখানে আছেন, সেখানে কামাই বন্ধ, মিলছে না খাবার। তাই এরা পায়ে হেঁটেই ঘরে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন। লাখে লাখে মানুষ নেমে পড়লেন রাস্তায় স্রেফ ঘরে ফিরবেন বলে। এই ঘটনাটাই কিন্তু রাষ্ট্রহীনতা, সরকারহীনতার তত্ত্বকে প্রমাণ করে দেয়। অযোগ্যতা, অপদার্থতার-ও একটা সীমা আছে। কিন্তু বদমায়েশির কোনো মাত্রা থাকে না। আসুন, দেখাই যাক। 
 
লক ডাউন করে যে রোগ আটকানো যায় না সেটা প্রমাণিত হয়ে গেছে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদা তুমুল আলোড়ন ফেলা গ্রাফ-টা যে আদতে একটা ঢপবাজি, সেটাও প্রমাণিত। হ্যাঁ, ভক্ত-কোম্পানি পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘাড়ে দায় চাপাচ্ছেন বটে। সেই আলোচনায় আমরা পরে আসছি। আপাতত লক ডাউনের মেকানিজম নিয়ে কথা বলা যাক। লক ডাউনের জন্য সামাজিক সংসর্গ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। ফলে কিছুদিনের জন্য সংক্রমণ ছড়ানোর হার-কে আটকে রাখা যায়। সেই সুযোগে গড়ে তুলতে হয় স্বাস্থ্য-পরিকাঠামো, যাতে ব্যাপক সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হলে তাদের চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা যায়। সেই আয়োজন কতদূর হল? হ্যাঁ, হোয়াটস অ্যাপ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপকেরা নানান কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যানা দিয়ে বিবিধ গল্প এককালে লিখেছিলেন বটে। তবে তারাও এখন হাল ছেড়ে দিয়েছেন। কেন? 
 
করোনায় আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসার জন্য চাই সুনির্দিষ্ট হাসপাতাল, প্রশিক্ষিত ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী, আই সি ইউ বেড, ভেন্টিলেটর। ঢাকঢোল পিটিয়ে দাবী করা হল, গুজরাটের রাজকোটের জ্যোতি সি এম সি অটোমেশন লিমিটেড নামক একটি সংস্থা নাকি সম্পূর্ণ নিজস্ব পদ্ধতিতে সস্তায় ভেন্টিলেটর বানিয়ে ফেলেছে। নাম তার ধমন। কোনরকম পরীক্ষানিরীক্ষা ছাড়াই গুজরাটের কোভিড হাসপাতালগুলো সেজে উঠল ধমন ভেন্টিলেটরে। কেন্দ্রীয় সরকার-ও ৫০,০০০ ভেন্টিলেটরের অর্ডার দিয়ে দিল, বিতর্কিত PM CARES Fund-এর টাকায়।  ১৮ মে আমেদাবাদ সিভিল হাসপাতালের চিকিৎসকরা দাবী তুললেন ধমনের বদলে আসল ভেন্টিলেটর চাই; নাহলে চিকিৎসা আটকে যাচ্ছে। আসল ভেন্টিলেটর মানে? ধমন তাহলে কী? জানা গেল ধমন উৎপাদনের জন্য ড্রাগ কন্ট্রোলারের লাইসেন্স অবধি নেই। আর এগুলো আসলে অ্যাম্বু ব্যাগ, যা অত্যন্ত জরুরী প্রয়োজনে ভেন্টিলেটরের অভাবে কিছুক্ষণের জন্য ব্যবহার করা যায়। সেটাকেই ভেন্টিলেটর তকমা দিল গুজরাট সরকার। যদিও ব্যাপক নিন্দার মুখে এখন সাফাই দেওয়া হচ্ছে গুজরাট সরকার নাকি কোনদিনই এগুলোকে ভেন্টিলেটর আখ্যা দেয়নি। 
 
করোনা-র প্রকোপ আদৌ কতটা বোঝার জন্য এক ও একমাত্র পথ হল ডিটেকশন। শুরু থেকেই অভিযোগ ছিল ভারতে ডিটেকশনের সংখ্যা খুবই নগণ্য। আর তার মধ্যেও খারাপ কিট দেওয়া হচ্ছে এমন একটা অভিযোগ বিভিন্ন রাজ্য সরকার তুলেছিলেন। যাই হোক, হাল এখন অনেকটাই শুধরেছে। একবার দেখা যাক সেই চেহারাটা। ৩ জুন ভারতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২,১৬,৮২৪, বিশ্বে সপ্তম। G 7 বৈঠকে ভারতকে ডাকার জন্য ট্রাম্পের আগ্রহের কারণ আছে বৈকি। যাই হোক, ৩ জুন পর্যন্ত ভারতে মোট পরীক্ষা হয়েছে ৪১,০৩,২৩৩। মোট পরীক্ষার তালিকায় বিশ্বে পাঁচ নম্বর; আমেরিকা, রাশিয়া, বৃটেন আর জার্মানির পরেই। নিঃসন্দেহে গর্বের। কিন্তু জনসংখ্যার কত শতাংশের পরীক্ষা হয়েছে, সেই প্রশ্ন এলেই সবকিছু গুবলেট হয়ে যাচ্ছে। সেই হিসাবটা হল প্রতি এক কোটিতে ২৯,৭৬০; শতাংশ হল ০.৩। নিশ্চিন্ত থাকুন। পাকিস্তান বা বাংলাদেশের থেকে আমরা কিন্তু এগিয়ে আছি। পাকিস্তানের শতাংশ হল ০.২৭ আর বাংলাদেশের ০.২১। এটাই হল চার দফা লক ডাউনের সুযোগে পরিকাঠামোর উন্নতি।
 
হ্যাঁ, মানুষের হাল ফেরানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের চিন্তার অন্ত নেই। তাই লক ডাউন চালু হবার তিন দিনের মাথায় Prime Minister’s Citizen Assistance and Relief in Emergency Situations Fund (PM CARES Fund) নামে একটি ত্রাণ তহবিলের জন্ম দেওয়া হল। ভাল কথা। এত মানুষের হাল ফেরানোর জন্য ত্রাণ তহবিল তো চাই। কিন্তু সমস্যা হল, সেই ১৯৪৮ সাল থেকেই ভারতে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিলের অস্তিত্ব রয়েছে। তাহলে আবার নতুন করে একটা ত্রাণ তহবিল কেন? যুক্তি দেখানো হল, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে করোনা-সংক্রান্ত বিষয়ে অর্থ বরাদ্দ করা সমস্যার। তাই এই সুনির্দিষ্ট তহবিল যা করোনা-সংক্রান্ত বিষয়েই তৎপর হবে। দু দিনের মধ্যে PM CARES Fund আয়কর দপ্তরের 80 G ধারায় ছাড় পেয়ে গেল। অর্থাৎ এখানে অর্থ সাহায্য করলে আয়কর ছাড় পাওয়া যাবে। তাতে অবশ্য আপত্তির কোনো কারণ নেই। এমন বহু প্রতিষ্ঠান ভারতে আছে। আপত্তির কারণ পরের ধাপে।
 
২০১৩ সাল থেকে ভারতে CSR বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি বলে একটা ব্যবস্থা আছে। কাদের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা প্রযোজ্য? যে কর্পোরেট সংস্থার মোট সম্পত্তি ৫০০ কোটি টাকা বা তার বেশি, অথবা যার বার্ষিক ব্যবসার পরিমাণ ১০০০ কোটি বা তার বেশি অথবা যার বার্ষিক মুনাফা ৫ কোটি বা তার বেশি। কী করতে হয় CSR-এ? বার্ষিক মুনাফার ২% সামাজিক কাজে ব্যয় করতে হয়। কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করলেন, PM CARES Fund-এ কোনো কর্পোরেট সংস্থা যে টাকা দান করবেন, সেটাকেই তার CSR বলে গণ্য করা হবে। তার মানে যে তহবিলের ক্ষেত্রে আয়কর আইনে 80 G ধারায় ছাড় পাওয়া যায়, সেটাকেই CSR বলে গণ্য করা হবে। অথচ, এতদিন পর্যন্ত CSR-এর ক্ষেত্রে কোন ত্রাণ তহবিল বা প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। যুক্তি উঠতেই পারে, এমন এক সঙ্কটের মোকাবিলায় সরকারি তহবিলকে এমন সুযোগ দেওয়াটা কি অন্যায়? এবং বাস্তবত সেটাই তোলা হচ্ছে। 
 
মুশকিল হল, PM CARES Fund কিন্তু সরকারি তহবিল নয়। এটি একটি ট্রাস্ট, পাবলিক চ্যারিটেবল ট্রাস্ট, যার চেয়ারম্যান হলেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। ট্রাস্ট গঠনের জন্য একটি দলিল বানাতে হয়। প্রশ্ন হল, সেই দলিলটি কবে তৈরি হয়েছে? কবে সেটি রেজিস্টার্ড হয়েছে? সব থেকে বড় কথা, আয়কর আইনের 80 G ধারার সুবিধা পেতে হলে একটি ট্রাস্টকে আয়কর আইনে নথিভূক্ত হতে হয় 12A ধারায়। ২৮ মার্চ PM CARES Fund-এর নাম প্রথম শোনা গেল। আর দু দিনের মধ্যে শোনা গেল 80 G-র কথা। তাহলে এই ট্রাস্ট আয়কর আইনের 12A ধারায় নথিভূক্তির আবেদন কবে করল? সেই নাম্বারটি কী? না, সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে এই নিয়ে কোন তথ্য নেই। এমনকি কতটাকা অনুদান হিসাবে পাওয়া গেছে বা কত টাকা কোন কোন খাতে এখনও পর্যন্ত বরাদ্দ করা হয়েছে, তারও কোনো তথ্য নেই। আর সস্তার ভেন্টিলেটরের জন্য অর্থ বরাদ্দ সংক্রান্ত জালিয়াতি তো ইতিমধ্যেই সামনে চলে এসেছে।
 
হ্যাঁ, প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল-ও সেই অর্থে সরকারি তহবিল নয়। সরকারি বাজেট থেকে সেখানে কোনও বরাদ্দ করা হয় না। সেখানেও 80 G ধারায় সুবিধা পাওয়া যায়। কিন্তু সঙ্গত কারণেই সেই তহবিলে অর্থ দিলে CSR হিসাবে গণ্য হয় না। তাহলে পার্থক্য কোথায়? প্রথমত PMNRF-এর ওয়েবসাইটে কত অর্থ পাওয়া গেছে আর কত অর্থ বরাদ্দ হয়েছে, তার হিসাব দেওয়া আছে। যেটা PM CARES Fund-এর ক্ষেত্রে নেই। দ্বিতীয়ত, সরকারি সাহায্য না পেলেও PMNRF-এর কাজের দায়িত্ব সরকারি প্রশাসনের উপরই ন্যস্ত। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের জয়েন্ট সেক্রেটারি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত। অর্থাৎ PMNRF সরকারি প্রশাসনিক কাঠামো দ্বারাই পরিচালিত হয়। কিন্তু PM CARES Fund-এর ক্ষেত্রে সেই কাঠামো সংক্রান্ত কোনো তথ্য এখনো পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মামলা হয়েছে। ৩ জুন মুম্বাই হাই কোর্টে PM CARES Fund-এ কত অর্থপ্রাপ্তি হল আর কত অনুদান দেওয়া হল, সেই হিসাব দেবার দাবী করে হওয়া একটি মামলার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার মামলাটি খারিজের আবেদন করেছেন। সব মিলিয়ে একটা সন্দেহের বাতাবরণ কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার নিজেই তৈরি করে ফেলেছেন।  কেন?
 
২০ লক্ষ কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজের সংবাদ প্রধানমন্ত্রী নিজেই দিয়েছিলেন। পরে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন ধাপে ধাপে সেই প্যাকেজটি খোলসা করেন। আর তাতেই ধোঁকা-টি পরিষ্কার হয়ে গেল। প্যাকেজে সমাজের দরিদ্রতম মানুষগুলোর জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। নেই কোনো সামাজিক প্রতিরক্ষার আয়োজন। যা কিছু আছে, সবটাই শিল্পপতিদের জন্য। আর বাস্তবে ঋণের ঢালাও বন্দোবস্ত ছাড়া আর কিছুই নেই। তার মানে হাততালির বরাদ্দ কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য; আর ঋণের দায়টা হল ব্যাঙ্কের। তবুও না হয় মানা গেল। কিন্তু আসল খেলাটা হল অন্যত্র। একদিকে “আত্মনির্ভর ভারতে”র শ্লোগান তোলা হল। আর পাশাপাশি আর্থিক প্যাকেজের নামে গাদাগুচ্ছের সরকারি প্রতিষ্ঠানের বে-সরকারিকরনের প্রস্তাব দেওয়া হল। শুধু বে-সরকারিকরণ নয়, সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের রাস্তা উন্মুক্ত করার কথা বলা হল। প্যাকেজের যাবতীয় ঢপবাজির মধ্যেও এই অংশটা বড্ড স্পষ্ট, লুকোনোর উপায় নেই।
 
কৃষিক্ষেত্রকে কর্পোরেট বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হল প্যাকেজে। যে কোনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবার থেকে রপ্তানি, খাদ্যশস্যের খুচরো ব্যবসা বা যে কোনো কারণে কৃষকদের থেকে সরাসরি কৃষিপণ্য কিনতে পারবে। এতদিন ভারতে খাদ্যশস্য, ভোজ্য তেল ও তার বীজ, ডাল, আলু ও পেঁয়াজ অত্যাবশ্যক পণ্য বলে স্বীকৃত ছিল। এইসব পণ্যের বিপণনের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ন্ত্রণ ছিল। যে কোনও বে-সরকারি সংস্থা চাইলেই বাজার থেকে যত খুশি পণ্য কিনে মজুত করতে পারত না। ৩ জুন কেন্দ্রিয় সরকার অত্যাবশ্যক পণ্যের তালিকা থেকে খাদ্যশস্য, ভোজ্য তেল ও তার বীজ, ডাল, আলু ও পেঁয়াজ-কে বাদ দিয়েছেন। ফলে যে কোনও বে-সরকারি সংস্থা ইচ্ছেমত এইসব ফসল ও ভোজ্যতেল কিনতে পারবে, চাইলে রপ্তানিও করতে পারবে, মজুত করে রাখতে পারবে। এর ফলে ভারতে খাদ্য সুরক্ষা-র গঙ্গাপ্রাপ্তি অনিবার্য। 
 
ভারতের সমস্ত রাজ্যেই নানান ধাঁচে রেশনিং ব্যবস্থা চালু আছে। মূলত হতদরিদ্র মানুষেরাই সেই সুবিধা নিয়ে থাকেন। রেশন ব্যবস্থায় যা যা খাদ্যশস্য বা অন্যান্য সামগ্রী পাওয়া যায়, সেগুলো কৃষকদের কাছ থেকে কেনা ও বন্টনের দায়িত্ব ফুড কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া, নাবার্ড ইত্যাদির মত সরকারি সংস্থাগুলোর। যে মুহূর্তে খাদ্যশস্যের বিপণনের উপর থেকে সরকারি নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে, পরের মুহূর্ত থেকেই কর্পোরেট সংস্থাগুলো বাজার থেকে শস্য কিনে লাট করে ফেলবে। প্রয়োজনে প্রথমদিকে তারা সামান্য দেশি দরও দেবে। তাৎক্ষণিক লাভের জন্য কৃষকরা তাদের হাতেই শস্য তুলে দেবেন। ফলে রেশন ব্যবস্থা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে খাদ্য সঙ্কট দেখা দিলে এফ সি আই বা নাবার্ড সেই অভাব পূরণ করার মত খাদ্যশস্য কিনতে পারবে না। এর ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে খাদ্য সঙ্কট দেখা দিতে বাধ্য। হ্যাঁ, অতীতে কিলোপ্রতি পঞ্চাশ পয়সা দর বেশি দিয়ে কার্গিল কোম্পানি এমন সঙ্কট সৃষ্টি করেছিল গমের বাজারে। 
 
সব মিলিয়ে বলা যায়, করোনা প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় সরকার স্রেফ নাটকবাজি করেছে। অপরিকল্পিত লক ডাউনের নামে দরিদ্র ভারতবাসীদের প্রাণ ওষ্ঠাগত করে তুলেছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে এমন আচরণ করেছে যেন তারা মানুষ নয়। আর এই সঙ্কট-কে সামনে রেখে  ভারতের বাজারকে উন্মুক্ত করে দিয়েছে কর্পোরেট ও বিদেশী কোম্পানিদের সামনে। ভক্ত-রা যতই জয়ধ্বনি দিন, ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনার মতই এক ভয়াবহ মানবসৃষ্ট আকাল নেমে আসবে ভারতের মাটিতে। আর সেই আকাল-কে ত্বরান্বিত করার যাবতীয় কৃতিত্ব বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের। করোনা প্রতিরোধের নামে ভারতের খাদ্য সুরক্ষা-কে জলাঞ্জলি দিয়েও তারা দেশপ্রেমিক সাজতে পারবেন। সবথেকে দুর্ভাগ্যের বিষয় হল এটাই।